- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন : ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
পলাশীর যুদ্ধ ছিল একটি নাটক, একটি ষড়যন্ত্র। ইংরেজদের তুলনায় নবাবের সৈন্য সংখ্যা অধিক হওয়া সত্ত্বেও যুদ্ধে নবাব পরাজিত হন। মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা নবাবের পরাজয়ের প্রধান কারণ হলে আরও বেশ কতগুলো কারণে নবাবের পরাজয় ঘটে। নিম্নে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের প্রধান কারণগুলো আলোচনা করা হলো-
প্রথমত, মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতাই ছিল নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের প্রথম এবং প্রধান কারণ। যে মীরজাফর পবিত্র কোরআন মাথায় নিয়ে বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার শপথ করেছিলেন সেই মীরজাফর যুদ্ধ ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে রইলেন। শুধু তাই নয়, যুদ্ধ জয়ের প্রাক্কালে যুদ্ধ বন্ধের নির্দেশ দিয়েও চরম বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় দিয়েছেন।
দ্বিতীয়ত, উত্তরাধিকার সূত্রে সিরাজ যে সিংহাসনটি পেয়েছিলেন তা মোটেও পুষ্প সজ্জা ছিল না। নবাব আলীবর্দী খান প্রভুর দৌহিত্রকে হত্যা করে বাংলার মসনদে বসেছিলেন এবং প্রভু তথা মুর্শিদ কুলী খানের বংশধরদের সকলকে উচ্চ পদ থেকে অপসারণ করে নিজের লোক বসিয়েছিলেন। যার ফলে বহু বিরোধী লোক সৃষ্টি হয়, যারা আলীবর্দীর মনোনীত সিরাজের বিরুদ্ধাচরণ করেছে। তাছাড়া আলীবর্দীর দুই কন্যাও সিংহাসনের দাবিদার ছিলেন। আলীবর্দী তোষণ নীতি দ্বারা ইংরেজদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। মোট কথা ভেতরে এবং বাইরে অনেক শত্রু থাকার মধ্য দিয়ে সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে বসেছিলেন, যা তার পরাজয়ের অন্যতম কারণ।
তৃতীয়ত, নবাব সিরাজউদ্দৌলা বয়সে অত্যন্ত তরুণ ছিলেন। তাছাড়া অতি আদরে বড় হওয়ায় রাজনৈতিক কূটকৌশল তিনি বুঝে উঠতে পারেননি। চারদিকে যেভাবে শত্রু সৃষ্টি হয়েছিল তা দমন করতে যে কঠোর মনোবল দরকার তা সিরাজের ছিল না। তিনি বিচক্ষণ হলে ষড়যন্ত্রকারীদের বহিষ্কার বা বন্দি করতে পারতেন, যুদ্ধ ক্ষেত্রে মীরজাফরের যুদ্ধ বিরতির উপদেশ উপেক্ষা করতে পারতেন। যুদ্ধ বন্ধের নির্দেশ সিরাজের দুর্বল চিত্তের বহিঃপ্রকাশ।
চতুর্থত, ব্রিটিশরা বরাবরই সুচতুর এবং কূটকৌশলী ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ক্লাইভ রণ-নীতি ও কূটনীতিতে সিরাজউদ্দৌলা অপেক্ষা অধিকতর দক্ষ ছিল। ভারতে আধিপত্য বিস্তারে ব্রিটিশ সরকারের সহযোগিতা এক্ষেত্রে কাজ করছে।
পঞ্চমত, এ সময় বঙ্গদেশে চারিত্রিক অবনতি দেখা দেয়। স্বার্থপরতা ও বিশ্বাসঘাতকতা অনেক বঙ্গদেশীয়দের চরিত্রকে কলুষিত করে। সেনাপতি, আমলা, রাজন্যবর্গ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ স্বীয়স্বার্থে জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে কুণ্ঠিত হয়নি। শুধু মীরজাফরই জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দেননি তার সঙ্গে ষড়যন্ত্রে মিলিত হয়েছিল জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ, রাজবল্লভ, উমিচাঁদ, মানিকচাঁদ, কৃষ্ণবল্লভ, ইয়ার লতিফ, ঘসেটি বেগম আরও অনেকে।
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ
দ্বৈত শাসনব্যবস্থা বিলোপ করেন কে?
সুবাদার শায়েস্তা খান ব্যতীত কোন শাসকের আমলে বাংলায় এক টাকায় আট মন চাউল পাওয়া যেত?
নবাব সিরাজউদ্দৌলার পিতার নাম কী?
অতি প্রাচীনকালে বাংলাদেশ ছিল-
কর্ণাটকের যুদ্ধ কাদের মধ্যে সংঘটিত হয়?
পর্তুগিজদের নিকট থেকে ইংরেজরা মুম্বাই শহরটি লাভ করে-
পলাশির যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারিত হয়েছিল-
মীর কাশিম মূলত কি কারণে রাজধানী স্থানান্তর করেছিলেন?
মাল জামিনী প্রথার প্রবর্তক কে ছিলেন?
বাংলায় এক টাকায় ৮ মন চাউল পাওয়া যেত কোন সুবাদারের আমলে?
বাংলায় এক টাকায় ৮ মন চাউল পাওয়া যেত কোন সুবাদারের আমলে?
মীর জুমলা
মোহাম্মদ আজম
শায়েস্তা খান
মুর্শিদ কুলী খান
ওলন্দাজ বলতে কাদের বোঝায়?
ওলন্দাজ বলতে কাদের বোঝায়?
ইংল্যান্ডের অধিবাসী
হল্যান্ডের অধিবাসী
ফ্রান্সের অধিবাসী
নেদারল্যান্ডের অধিবাসী
কর্ণাটকের দ্বিতীয় যুদ্ধে লর্ড ক্লাইভ নিম্নের কোন ব্যক্তির পক্ষ গ্রহণ করেছিলেন?
কর্ণাটকের দ্বিতীয় যুদ্ধে লর্ড ক্লাইভ নিম্নের কোন ব্যক্তির পক্ষ গ্রহণ করেছিলেন?
সম্রাট শাহ আলম
আনোয়ার উদ্দিন
চাঁদ সাহেব
নিজাম উল মুলক
পলাশির যুদ্ধ শুধুমাত্র যুদ্ধ নয়, ইহা একটি বিপ্লব-উক্তিটি কোন ঐতিহাসিকের?
পলাশির যুদ্ধ শুধুমাত্র যুদ্ধ নয়, ইহা একটি বিপ্লব-উক্তিটি কোন ঐতিহাসিকের?
পি.জে মার্শাল
ম্যালসন
পি. কে হিট্রি
ভিনসেন স্মিথ


