- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- সৌরজগৎ ও ভূমণ্ডল
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
পৃথিবীর বিভিন্ন সাগর মহাসাগরে সমুদ্রস্রোত ছাড়াও পানিরাশির নিজস্ব গতি আছে। এর ফলে প্রতিদিনই কিছু সময় সমুদ্রের পানি ফুলে ওঠে ফলে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। আবার কিছু সময়ের জন্য তা নেমে যায়। সমুদ্রের পানি এভাবে নিয়মিতভাবে ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে। পৃথিবীর নিজের গতি এবং তার উপর চন্দ্র ও সূর্যের প্রভাবেই মূলত জোয়ার-ভাটা সংঘটিত হয়। জোয়ার, ভাটার নানা শ্রেণি রয়েছে। পৃথিবীর উপরও জোয়ার-ভাঁটা নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করে।
জোয়ার-ভাটার ধারণা, কারণ ও শ্রেণিবিভাগ
চন্দ্র ও সূর্য ভূপৃষ্ঠের জল ও স্থলভাগকে অবিরাম আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণের ফলে ভূপৃষ্ঠের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্রত্যহ একস্থানে ফুলে ওঠে এবং অন্যত্র নেমে যায়। এভাবে প্রত্যেক সাড়ে বারো ঘণ্টায় সমুদ্রের পানি একবার নিয়মিতভাবে ওঠানামা করে। তবে জোয়ার ও ভাটা প্রতি ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট পর পর হয়। সমুদ্র পানিরাশির নিয়মিতভাবে এ ফুলে ওঠাকে জোয়ার (High Tide) এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা (Ebb or Low Tide) বলে। সমুদ্রের মধ্যভাগে পানি সাধারণত এক থেকে তিন ফুট উঁচু-নিচু হয়; কিন্তু উপকূলের নিকট সাগর উপসাগরের গভীরতা কম বলে সেখানে পানিরাশি অনেক উঁচু-নিচু হয়। এ জন্য সমুদ্রের মোহনা থেকে নদীসমূহের গতিপথে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ার-ভাটা অনুভূত হয়।
জোয়ার-ভাটার কারণ: প্রাচীনকালে জোয়ার-ভাঁটার কারণ সম্পর্কে নানা ধরনের অবাস্তব কল্পনা করা হতো। কিন্তু বর্তমানে বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ শক্তি ও পৃথিবীর ওপর চন্দ্র সূর্যের আকর্ষণে জোয়ার-ভাটা হয়।
মহাকর্ষ ও মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাব: এই মহাবিশ্বের যে কোনো পদার্থের আকর্ষণ শক্তি আছে। একটি বস্তু অন্য বস্তুকে আকর্ষণ করে। মহাবিশ্বের দুটি বস্তুর মধ্যে পরস্পর আকর্ষণ শক্তিকে মহাকর্ষ শক্তি বা মহাকর্ষণ বলে। এই মহাকর্ষ শক্তির ফলে পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে এবং চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে। যে বস্তু যত বড়ো তার আকর্ষণ শক্তি তত বেশি। কিন্তু দূরত্ব বৃদ্ধি পেলে মহাকর্ষ শক্তি কমে যায়। পৃথিবী এবং এর নিকটতম যে কোনো বস্তুর মধ্যকার আকর্ষণকে মাধ্যাকর্ষণ বলে। অর্থাৎ কোনো বস্তুর উপর পৃথিবীর আকর্ষণকে অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলে। সূর্য চন্দ্র অপেক্ষা ২.৬০ কোটি গুণ বড়ো হলেও পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব চন্দ্রের দূরত্ব থেকে অনেক বেশি। তাই পৃথিবীর ওপর চন্দ্রের আকর্ষণ শক্তি সূর্য অপেক্ষা প্রায় দ্বিগুণ। পৃথিবীর ওপর চন্দ্রের যে আকর্ষণ তাই হলো মাধ্যাকর্ষণ শক্তি। এ মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে জোয়ার-ভাঁটা হয়।
কেন্দ্রাতিগ বা কেন্দ্রাভিমুখী শক্তি: পৃথিবী তার অক্ষ বা মেরুদণ্ডের ওপর থেকে চারিদিকে দ্রুত বেগে ঘুরছে বলে তার পৃষ্ঠ থেকে তরল পানিরাশি চতুর্দিকে ছিটকে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। একেই কেন্দ্রাতিগ শক্তি (Centrifugal Force) বলে। পৃথিবী ও চন্দ্রের আবর্তনের জন্য ভূপৃষ্ঠের তরল ও হালকা জলরাশির ওপর কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাব অধিক হয়। এর ফলেই জলরাশি সর্বদা বাইরে নিক্ষিপ্ত হয় এবং তরল জলরাশি কঠিন ভূভাগ হতে বিচ্ছিন্ন হতে চায়। এমনিভাবে বেন্দ্রাতিগ শক্তিও জোয়ার-ভাঁটা সৃষ্টিতে সহায়তা করে।
জোয়ার-ভাটার শ্রেণিবিভাগ: জোয়ার-ভাটাকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়, যেমন-মুখ্য জোয়ার, গৌণ জোয়ার, ভরা কটাল ও মরা কটাল। চাঁদ পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরছে। চাঁদের এই আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চাঁদের নিকটবর্তী হয় সেখানে চাঁদের আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি। ফলে পার্শ্ববর্তী স্থান হতে পানি এসে ঠিক চন্দ্রের নিচে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। একে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলে। মুখ্য জোয়ারের বিপরীত দিকে পানির নিচের স্থলভাগ পৃথিবীর কেন্দ্রের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ। ফলে তার ওপর চাঁদের আকর্ষণ পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলের আকর্ষণের সমান থাকে। এতে বিপরীত দিকের পানিরাশি অপেক্ষা স্থলভাগ চাঁদের দিকে বেশি আকৃষ্ট হয়। এতে কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়। দুই দিকের পানি সে স্থানে প্রবাহিত হয়ে যে জোয়ারের সৃষ্টি করে, তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বলে। যখন পৃথিবীর একপাশে মুখ্য জোয়ার ও অন্যপাশে গৌণ জোয়ার হয় তখন দুই জোয়ারের মধ্যবর্তী স্থল থেকে পানি সরে যায়। মধ্যবর্তী স্থলের পানির ঐ অবস্থাকে ভাটা বলে।
অমাবস্যা তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর একই পাশে এবং পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবীর এক পাশে চাঁদ ও অপর পাশে সূর্য অবস্থান করে। ফলে এ দুই তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য সমসূত্রে থাকে এবং উভয়ের মিলিত আকর্ষণে যে প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয় তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বলে। সপ্তমী ও অষ্টমী তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সমকোণে অবস্থান করার ফলে চন্দ্রের আকর্ষণে এ সময়ে চাঁদের দিকে জোয়ার হয়। কিন্তু সূর্যের আকর্ষণের জন্য এ জোয়ারের বেগ তত প্রবণ হয় না। এ রূপ জোয়ারকে মরা কটাল বলে। এক মাসে দু'বার ভরা কটাল এবং দু'বার মরা কটাল হয়।
জোয়ার-ভাটার ব্যবধান পৃথিবী যেমন নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম হতে পূর্বদিকে আবর্তন করছে চন্দ্রও তেমনি পৃথিবীর চারদিকে পশ্চিম হতে পূর্বদিকে পরিক্রমণ করে। চন্দ্র নিজ কক্ষপথে ২৭ দিনে পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করে। ফলে পৃথিবীর একবার আবর্তনকালে অর্থাৎ প্রায় ২৪ ঘণ্টায় চন্দ্র (৩৬০ ২৭) বা ১৩০ পথ অতিক্রম করে। পৃথিবী ও চন্দ্র উভয়ই যেহেতু পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ঘুরছে তাই পৃথিবী উক্ত ১৩০ পথ আরও (১৩ × ৪)-৫২ মিনিটে অগ্রসর হয়। ১০ পথ অতিক্রম করতে পৃথিবীর ৪ মিনিট সময় লাগে। কোনো নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট সময়ে মুখ্য জোয়ার হওয়ার ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট পরে সেখানে গৌণ জোয়ার হয় এবং মুখ্য জোয়ারের ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট পর সেখানে আবার মুখ্য জোয়ার হয়। এভাবে প্রত্যেক স্থানে জোয়ার শুরুর ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট পরে ভাঁটা হয়ে থাকে
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ
'ওবেরন' ও 'নেরাইড' কী?
'ওবেরন' ও 'নেরাইড' কী?
শনি ও বৃহস্পতির উপগ্রহ
বৃহস্পতি ও ইউরেনাসের উপগ্রহ
ইউরেনাস ও নেপচুনের উপগ্রহ
শনি ও নেপচুনের উপগ্রহ
পৃথিবীর আয়তন কত?
পৃথিবীর আয়তন কত?
৫১০,১০০,৪২২ বর্গ কি.মি.
৫২,২৩,৮১,৫০০ বর্গ কি.মি.
৫৪,৫১,৪২,৮০০ বর্গ কি.মি.
৯৩,৮০,৫১,৮২৭ বর্গ কি.মি.
শনির বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাসগুলোর মিশ্রণ রয়েছে?
শনির বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাসগুলোর মিশ্রণ রয়েছে?
নাইট্রোজেন ও হিলিয়াম
হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম
কার্বনডাই-অক্সাইড ও হিলিয়াম
অক্সিজেন ও হিলিয়াম
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো প্রচুর সৌরশক্তি পায় কোন স্থানের দ্রাঘিমা ৭০০ পূর্ব, স্থান দুটির মধ্যকার সময়ের পার্থক্য কত?
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো প্রচুর সৌরশক্তি পায় কোন স্থানের দ্রাঘিমা ৭০০ পূর্ব, স্থান দুটির মধ্যকার সময়ের পার্থক্য কত?
০০-৩০০
৩০০-৬০০
৬০০-৯০০
৮০০-৯০০
কোন সময়ে উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল বিরাজ করে?
কোন সময়ে উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল বিরাজ করে?
জানুয়ারি-মার্চ
ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল
মার্চ-মে
এপ্রিল-জুন
কোনো স্থানে যখন বেলা ১২টা তখন সে স্থান থেকে ১০ ডিগ্রি পশ্চিমে অবস্থিত স্থানের সময় কত হবে?
কোনো স্থানে যখন বেলা ১২টা তখন সে স্থান থেকে ১০ ডিগ্রি পশ্চিমে অবস্থিত স্থানের সময় কত হবে?
১১.২০ ঘণ্টা
১২.৪০ ঘণ্টা
১২.২০ ঘণ্টা
১২.৫০ ঘণ্টা
পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব কত?
পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব কত?
১৩ কোটি কি. মি.
১৪ কোটি কি. মি.
১৫ কোটি কি. মি.
১৬ কোটি কি. মি.
সূর্য আপন গ্যালাক্সির চারদিকে কত দিনে ঘুরে?
সূর্য আপন গ্যালাক্সির চারদিকে কত দিনে ঘুরে?
প্রায় ২ কোটি বছরে
প্রায় ৭ কোটি বছরে
প্রায় ১৪ কোটি বছরে
প্রায় ২০ কোটি বছরে
সূর্য শক্তি উৎপাদন করে-
সূর্য শক্তি উৎপাদন করে-
পারমাণবিক শক্তি সৃষ্টির প্রক্রিয়ায়
আণবিক শক্তি সৃষ্টির প্রক্রিয়ায়
বৈদ্যুতিক শক্তি সৃষ্টির প্রক্রিয়ায়
সৌরশক্তি সৃষ্টির প্রক্রিয়ায়
গ্রহের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
গ্রহের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
সারাক্ষণ জ্বলজ্বল করে
জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ড
নিজস্ব আলো ও তাপ
আলো আছে কিন্তু তাপ নেই


