- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
বক্সারের যুদ্ধের পর ১৭৬৫ সালে মোঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গর্ভনর রবার্ট ক্লাইভের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। ক্লাইভ বাংলার নবাবের উপর শাসন ও বিচারবিভাগের দায়িত্ব অর্পণ করেন এবং প্রতিরক্ষার দায়িত্ব ন্যস্ত করেন কোম্পানির উপর। এটাকে দ্বৈতশাসন বলা হয়।
দ্বৈতশাসন ছিল এদেশের মানুষের জন্য এক চরম অভিশাপ। রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব পেয়ে ইংরেজরা প্রজাদের উপর অতিরিক্ত কর আরোপ করে তা আদায়ে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। কোম্পানি এবং এর কর্মচারীদের অর্থের লালসা দিন দিন বাড়তে থাকে। অতিরিক্ত করের চাপে যখন জনগণ ও কৃষকের নাভিশ্বাস উঠার অবস্থা সে সময় দেশে পর পর তিন বছর অনাবৃষ্টির ফলে খরায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ১৭৭০ (বাংলা ১১৭৬) সালে বাংলায় নেমে আসে দুর্ভিক্ষের করাল ছায়া। দুর্ভিক্ষে লাখ লাখ লোক অনাহারে মারা গেলেও কোম্পানি করের বোঝা কমানোর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এই দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ লোকের মৃত্যু হয়েছিল। ইতিহাসে এটি ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
১৭৭৩ সালের পর থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নরদের পদবি হয়ে যায় গভর্নর জেনারেল। কয়েকজন উল্লেখযোগ্য গভর্নর জেনারেল হলেন ওয়ারেন হেস্টিংস, লর্ড কর্নওয়ালিস, লর্ড ওয়েলেসলি, লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক, লর্ড হার্ডিঞ্জ, লর্ড ডালহৌসি প্রমুখ। ভারতবর্ষে ইংরেজ সাম্রাজ্য বিস্তারের লক্ষ্যে তারা ডাক ও তার এবং রেল যোগাযোগ স্থাপনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
ইংরেজ শাসকদের গৃহীত প্রধান প্রধান কাজ নিচে উল্লেখ করা হলো-
- ১৮৫৮ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে গৃহীত ভারত শাসন আইনে বাংলায় ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেলের হাতে ভূমি রাজস্বব্যবস্থা অর্পণ করা হয়।
- ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করে ব্রিটিশদের অনুগত জমিদার শ্রেণি তৈরি করা হয়।
- রাষ্ট্র ও প্রশাসন পরিচালনায় ইংরেজ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করা হয়।
- মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তর, শিক্ষা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর করে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ নগরীতে রূপান্তর করা হয়। ১৭৭২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়ারেন হেস্টিংস কলকাতাকে ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী ঘোষণা করেন।
তবে কোম্পানি শাসনামলে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ও লর্ড হার্ডিঞ্জ এদেশে শিক্ষা বিস্তারসহ আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার সূচনা করেন। এ ছাড়া সতীদাহ প্রথা ও বাল্যবিবাহ রোধ এবং বিধবা বিবাহ প্রবর্তনসহ সামাজিক কুপ্রথা নিবারণে রাজা রামমোহন রায় এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো বাঙালিদের উদ্যোগকে তারা সহযোগিতা দেন। এভাবে দেশে একটি নতুন শিক্ষিত শ্রেণি ও নাগরিক সমাজ গড়ে উঠলেও বৃহত্তর বাঙালি সমাজ ইংরেজ কোম্পানির শাসনে প্রকৃতপক্ষে শোষিত হয়েছে।
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার দখল পেয়েই ক্ষান্ত ছিল না। দিল্লিতে সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মোগল সাম্রাজ্যে বিভিন্ন সংকট দেখা দেয়। সাম্রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ছোটোবড়ো নবাব ও দেশীয় রাজারা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এর ফলে দিল্লির মসনদও দুর্বল হয়ে পড়ে। এই সুযোগে কোম্পানির সেনাবাহিনী নানা দিকে আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে।
১৮৫৭ সালে কোম্পানি শাসনের প্রায় একশ বছর পরে ইংরেজ অধ্যুষিত ভারতের বিভিন্ন ব্যারাকে সিপাহিদের মধ্যে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু উন্নত অস্ত্র ও দক্ষ সেনাবাহিনীর সাথে চাতুর্য ও নিষ্ঠুরতার যোগ ঘটিয়ে ইংরেজরা এ বিদ্রোহ দমন করে। এরপর ১৮৫৮ সালের ২রা আগস্ট ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারত শাসন আইন পাশ হয়, যার মধ্য দিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে। ব্রিটিশ সরকার সরাসরি ভারতের শাসনভার নিজ হাতে গ্রহণ করে।
ব্রিটিশ শাসনকালে (১৮৫৮-১৯৪৭) বাংলার সমাজে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ছিল কৃষক, অন্যদিকে মুষ্টিমেয় জমিদার ছিল সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রেণি। সমাজে কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষের সংখ্যা যথেষ্ট ছিল না। বস্তুত ব্রিটিশ শাসনে বাংলার অর্থনীতির মেরুদণ্ড কৃষি ও এককালের সমৃদ্ধ তাঁতশিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছায়। বাংলার বণিক গোষ্ঠী তেমন সংগঠিত ছিল না, শিল্পেও বাংলার অবস্থান তখন উল্লেখ করার মতো নয়। সামাজিক অনুশাসনের দাপটে নারীসমাজ ব্যাপকভাবে পিছিয়ে ছিল। মধ্যবিত্ত সমাজও ততটা শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে নি। ব্রিটেন ছিল সেই সময়ে পৃথিবীর প্রধান ধনী দেশ। গোটা ভারত ছিল ব্রিটেনের উপনিবেশ অর্থাৎ শোষণের ক্ষেত্র।
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ
কার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলায় ইংরেজ শাসনের সূত্রপাত হয়?
কার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলায় ইংরেজ শাসনের সূত্রপাত হয়?
নবাব সিরাজউদ্দৌলার
নবাব আলীবর্দী খান
নবাব মীর জাফর আলী খান
নবাব মীর কাসিম আলী খান
বাংলায় স্বাধীন সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন কে?
বাংলায় স্বাধীন সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন কে?
নবাব সিরাজউদ্দৌলা
ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
নবাব আলীবর্দি খাঁ
ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খলজি
শশাঙ্কের মৃত্যুর পর একশত বছরকে মাৎস্যন্যায়ের যুগ বলা হয়। কারণ তখন-
i. দেশে সর্বত্র বিশৃঙ্খলা বিরাজ করত
ii. বড় মাছ ছোট ছোট মাছকে ধরে খেয়ে ফেলত
iii. শাসকবর্গ সুশাসনে অক্ষম ছিল
নিচের কোনটি সঠিক?
শশাঙ্কের মৃত্যুর পর একশত বছরকে মাৎস্যন্যায়ের যুগ বলা হয়। কারণ তখন-
i. দেশে সর্বত্র বিশৃঙ্খলা বিরাজ করত
ii. বড় মাছ ছোট ছোট মাছকে ধরে খেয়ে ফেলত
iii. শাসকবর্গ সুশাসনে অক্ষম ছিল
নিচের কোনটি সঠিক?
i ও ii
i ও iii
ii ও iii
i, ii ও iii
মাহিমের দাদুর বর্ণিত ঘটনায় কোন শাসনের চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে?
মাহিমের দাদুর বর্ণিত ঘটনায় কোন শাসনের চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে?
নবাব শাসন
সুবাদার শাসন
দ্বৈত শাসন
ইংরেজ শাসন
দিল্লির সাথে বাংলার সম্পর্কের বড় ধরনের পরিবর্তনের কারণ-
দিল্লির সাথে বাংলার সম্পর্কের বড় ধরনের পরিবর্তনের কারণ-
আকবরের মসনদে বসা
হুমায়ুনের মসনদে বসা
জাহাঙ্গীরের মসনদে বসা
বাবরের মসনদে বসা
বাংলা কত বছর ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনাধীনে ছিল?
বাংলা কত বছর ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনাধীনে ছিল?
প্রায় একশ বছর
প্রায় দেড়শ বছর
প্রায় দুইশ বছর
প্রায় তিনশ বছর
বর্ণিত ঘটনার ফলে-
i. দেশে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটে
ii. জনগণ দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়
iii. জনগণের মধ্যে বিদ্রোহী মনোভাব জেগে ওঠে
নিচের কোনটি সঠিক?
বর্ণিত ঘটনার ফলে-
i. দেশে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটে
ii. জনগণ দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়
iii. জনগণের মধ্যে বিদ্রোহী মনোভাব জেগে ওঠে
নিচের কোনটি সঠিক?
i
ii
iii
i, ii ও iii
বাংলায় ইউরোপীয় বণিকদের আগমনের উদ্দেশ্যে কী ছিল?
বাংলায় ইউরোপীয় বণিকদের আগমনের উদ্দেশ্যে কী ছিল?
নির্বিচারে মানুষ হত্য করা
স্থায়িভাবে দেশ শাসন করা
ব্যবসায় বাণিজ্য
দেশ দখল করা
১৭৫৭ সালে বাংলা-বিহার ও উড়িষ্যার নবাব কে ছিলেন?
১৭৫৭ সালে বাংলা-বিহার ও উড়িষ্যার নবাব কে ছিলেন?
উইলিয়াম হেজেজ
নবাব আলীবর্দী
নবাব সিরাজউদ্দৌলা
মীর মর্দন
কে ১৫৩৮ সালে লখনৌতি দখল করেছিলেন?
কে ১৫৩৮ সালে লখনৌতি দখল করেছিলেন?
সম্রাট আকবর
সম্রাট হুমায়ূন
বখতিয়ার খলজি
ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
বাংলা ইতিহাসে প্রত্যক্ষ ও ঔপনিবেশিক শাসন শুরু হয় কীভাবে?
বাংলা ইতিহাসে প্রত্যক্ষ ও ঔপনিবেশিক শাসন শুরু হয় কীভাবে?
বিদেশি বণিকদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে
উন্নত সমর জ্ঞানের সমন্বয়ে
এদেশীয় ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধাচরণ
মোগল কর্মচারীদের দুর্নীতির ফলে


