- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
প্রাচীনকাল থেকেই বাংলা অঞ্চলে মানব বসতির কথা জানা যায়। এ অঞ্চলটি বরাবরই ছিল ধনসম্পদে পূর্ণ একটি এলাকা। ফলে ইংরেজ আগমনের অনেক আগে থেকেই এখানে বাইরের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষের আগমন ঘটতে থাকে। সকলের আকর্ষণের প্রধান লক্ষ্য ছিল বাংলার অর্থনৈতিক প্রাচুর্য।
খ্রিষ্টপূর্ব যুগে বহিরাগত আর্য ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী বাংলায় প্রবেশ করেছিল। খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে বাংলার উত্তরাংশ দখল করেন ভারতের মৌর্য সম্রাট অশোক। সে সময় পুণ্ড্রনগর (পুণ্ড্রবর্ধনভুক্তি) হয় মৌর্যদের প্রদেশ। মৌর্যদের পর ভারতে প্রতিষ্ঠিত হয় গুপ্ত সাম্রাজ্য। চার শতকে উত্তর বাংলা ও দক্ষিণ-পূর্ববাংলার কিছু অংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধিকারে আসে। গুপ্তদের পতনের পর সপ্তম শতকে বাংলার উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে প্রথম বাঙালি শাসক শশাঙ্ক কর্তৃক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। একই সময়ে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ববাংলায় বঙ্গ নামে আরেকটি স্বাধীন রাজ্য গড়ে উঠেছিল। তাঁর মৃত্যুর পর একশো বছর ধরে বাংলায় অরাজকতা চলতে থাকে। যাকে সংস্কৃত ভাষায় বলা হয় মাৎস্যন্যায় যুগ। এরপর বাঙালিদের দীর্ঘস্থায়ী রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয় আট শতকের মাঝ পর্বে। প্রায় চারশো বছর বাংলাকে শাসন করেন বাঙালি পাল রাজারা। পালদের পতনের পর এগারো শতকের শেষ দিকে আবার বিদেশি শাসনের অধীনে চলে যায় বাংলা। দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক থেকে আসা সেন রাজারা বাংলার সিংহাসন দখল করে নেন।
সেন শাসনের অবসান ঘটে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির হাতে। তিনি রাজা লক্ষ্মণসেনকে পরাজিত করে মুসলমান শাসনের সূচনা করেন। ১২০৪ থেকে ১২০৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার পশ্চিমে নদীয়া ও উত্তর বাংলার কিছুটা অংশ বখতিয়ার খলজির দখলে ছিল। তারপর ১৩৩৮ সাল পর্যন্ত বাংলা জুড়ে মুসলিম শাসনের বিস্তার ঘটতে থাকে।
এ সময়ের মধ্যে বাংলার তিনটি অংশে দিল্লি সালতানাতের তিনটি প্রদেশ বা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিভাগগুলো উত্তর বাংলায় লখনৌতি, পশ্চিম বাংলায় সাতগাঁও এবং পূর্ববাংলায় সোনারগাঁও নামে পরিচিত ছিল। ১৩৩৮ সালে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ দিল্লির সুলতানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এভাবে বাংলায় স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা হয়। তবে সমগ্র বাংলার এক বৃহদাংশ অধিকার করে স্বাধীনভাবে রাজত্ব করার মাধ্যমে সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ বাংলার প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন বলে ধরা হয়। ইলিয়াস শাহ 'শাহ-ই-বাঙ্গালা' ও 'শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান' উপাধি ধারণ করেন।
স্বাধীন সুলতানি আমলের অপর অন্যতম উল্লেখযোগ্য শাসক ছিলেন সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ। ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা এবং ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম বাংলার শিল্প, সাহিত্যের বিকাশে তাঁর অবদান অপরিসীম। ১৫৩৮ সালে অবসান ঘটে বাংলার স্বাধীন সুলতানি শাসনের। অবশ্য এর আগেই মোগলশক্তি দিল্লির সিংহাসন দখল করেছিল। মোগল সম্রাট হুমায়ুন ১৫৩৮ সালে উত্তরবাংলার গৌড় অর্থাৎ লখনৌতি দখল করলেও বাংলায় তখন মোগল শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। এর কারণ, বিহারের আফগান শাসক শের খান হুমায়ূনকে প্রথমে বাংলা ও পরে ভারত থেকে বিতাড়িত করেন। এ পর্বে বাংলার শাসন ক্ষমতা আফগানদের হাতে চলে যায়।
ভারতে মোগলরা আবার সংগঠিত হয় এবং রাজমহলের যুদ্ধে আফগানদের হারিয়ে দিল্লির সিংহাসন পুনরুদ্ধার করেন। এরপর সম্রাট আকবরের সময় ১৫৭৬ সালে পশ্চিম বাংলা ও উত্তর বাংলার অনেকটা অংশ মোগলদের অধিকারে আসে। বাংলার পূর্বাংশ অর্থাৎ আজকের বাংলাদেশ অংশ সহজে মোগলরা দখল করতে পারে নি। বারোভূঁইয়া নামে পরিচিত পূর্ববাংলার জমিদাররা একযোগে মোগল আক্রমণ প্রতিহত করেন। আকবরের সেনাপতি মানসিংহ কয়েকবার চেষ্টা করেও বারোভূঁইয়াদের নেতা ঈশা খাঁকে পরাজিত করতে পারে নি।
সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে ১৬১০ সালে মোগল সুবেদার ইসলাম খান চিশতি চূড়ান্তভাবে বারোভূঁইয়াদের পরাজিত করে ঢাকা অধিকার করেন এবং তৎকালীন দিল্লির সম্রাট জাহাঙ্গীরের নাম অনুসারে জাহাঙ্গীরনগর নামকরণ করেন। এভাবেই বাংলায় মোগল অধিকার সম্পন্ন হয়। এই মোগল শাসন চলে আঠারো শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত। ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের মধ্য দিয়ে মোগল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে। সেই সাথে বাংলার ক্ষমতা দখল করে ইংরেজ শক্তি। আর এভাবেই শুরু হয় ঔপনিবেশিক শক্তির শাসন।
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ
কার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলায় ইংরেজ শাসনের সূত্রপাত হয়?
কার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলায় ইংরেজ শাসনের সূত্রপাত হয়?
নবাব সিরাজউদ্দৌলার
নবাব আলীবর্দী খান
নবাব মীর জাফর আলী খান
নবাব মীর কাসিম আলী খান
বাংলায় স্বাধীন সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন কে?
বাংলায় স্বাধীন সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন কে?
নবাব সিরাজউদ্দৌলা
ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
নবাব আলীবর্দি খাঁ
ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খলজি
শশাঙ্কের মৃত্যুর পর একশত বছরকে মাৎস্যন্যায়ের যুগ বলা হয়। কারণ তখন-
i. দেশে সর্বত্র বিশৃঙ্খলা বিরাজ করত
ii. বড় মাছ ছোট ছোট মাছকে ধরে খেয়ে ফেলত
iii. শাসকবর্গ সুশাসনে অক্ষম ছিল
নিচের কোনটি সঠিক?
শশাঙ্কের মৃত্যুর পর একশত বছরকে মাৎস্যন্যায়ের যুগ বলা হয়। কারণ তখন-
i. দেশে সর্বত্র বিশৃঙ্খলা বিরাজ করত
ii. বড় মাছ ছোট ছোট মাছকে ধরে খেয়ে ফেলত
iii. শাসকবর্গ সুশাসনে অক্ষম ছিল
নিচের কোনটি সঠিক?
i ও ii
i ও iii
ii ও iii
i, ii ও iii
মাহিমের দাদুর বর্ণিত ঘটনায় কোন শাসনের চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে?
মাহিমের দাদুর বর্ণিত ঘটনায় কোন শাসনের চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে?
নবাব শাসন
সুবাদার শাসন
দ্বৈত শাসন
ইংরেজ শাসন
দিল্লির সাথে বাংলার সম্পর্কের বড় ধরনের পরিবর্তনের কারণ-
দিল্লির সাথে বাংলার সম্পর্কের বড় ধরনের পরিবর্তনের কারণ-
আকবরের মসনদে বসা
হুমায়ুনের মসনদে বসা
জাহাঙ্গীরের মসনদে বসা
বাবরের মসনদে বসা
বাংলা কত বছর ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনাধীনে ছিল?
বাংলা কত বছর ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনাধীনে ছিল?
প্রায় একশ বছর
প্রায় দেড়শ বছর
প্রায় দুইশ বছর
প্রায় তিনশ বছর
বর্ণিত ঘটনার ফলে-
i. দেশে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটে
ii. জনগণ দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়
iii. জনগণের মধ্যে বিদ্রোহী মনোভাব জেগে ওঠে
নিচের কোনটি সঠিক?
বর্ণিত ঘটনার ফলে-
i. দেশে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটে
ii. জনগণ দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়
iii. জনগণের মধ্যে বিদ্রোহী মনোভাব জেগে ওঠে
নিচের কোনটি সঠিক?
i
ii
iii
i, ii ও iii
বাংলায় ইউরোপীয় বণিকদের আগমনের উদ্দেশ্যে কী ছিল?
বাংলায় ইউরোপীয় বণিকদের আগমনের উদ্দেশ্যে কী ছিল?
নির্বিচারে মানুষ হত্য করা
স্থায়িভাবে দেশ শাসন করা
ব্যবসায় বাণিজ্য
দেশ দখল করা
১৭৫৭ সালে বাংলা-বিহার ও উড়িষ্যার নবাব কে ছিলেন?
১৭৫৭ সালে বাংলা-বিহার ও উড়িষ্যার নবাব কে ছিলেন?
উইলিয়াম হেজেজ
নবাব আলীবর্দী
নবাব সিরাজউদ্দৌলা
মীর মর্দন
কে ১৫৩৮ সালে লখনৌতি দখল করেছিলেন?
কে ১৫৩৮ সালে লখনৌতি দখল করেছিলেন?
সম্রাট আকবর
সম্রাট হুমায়ূন
বখতিয়ার খলজি
ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
বাংলা ইতিহাসে প্রত্যক্ষ ও ঔপনিবেশিক শাসন শুরু হয় কীভাবে?
বাংলা ইতিহাসে প্রত্যক্ষ ও ঔপনিবেশিক শাসন শুরু হয় কীভাবে?
বিদেশি বণিকদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে
উন্নত সমর জ্ঞানের সমন্বয়ে
এদেশীয় ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধাচরণ
মোগল কর্মচারীদের দুর্নীতির ফলে


