- হোম
- মডেল টেস্ট
কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স
সাম্প্রতিক ঘটনা ও তথ্য নিয়ে প্রশ্নোত্তর।
এপ্রিলের ফিসক্যাল মনিটরে IMF জানায়, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক সরকারি ঋণ জিডিপির ৯৩.৯ শতাংশে পৌঁছেছে এবং ২০২৯ সালের মধ্যে তা ১০০ শতাংশে উঠতে পারে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেখা যায়নি। বৈশ্বিক আর্থিক বাফার এক দশক আগের জিডিপির ১ শতাংশের বেশি থেকে এখন প্রায় শূন্যে নেমেছে। অর্থাৎ নতুন ধাক্কা এলে সামলানোর সুযোগ কম। অক্টোবরের WEO-তেও বলা হয়েছে, অনেক দেশের বাজেট ঘাটতি কোভিডের আগের তুলনায় অনেক বেশি এবং ঋণের খরচ বাড়ছে। IMF তাই বাফার পুনর্গঠনে "শক্ত ও সুচিন্তিত পদক্ষেপ" নিতে বলেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এর অর্থ হলো, বাইরে থেকে ঋণ পাওয়া কঠিন ও ব্যয়বহুল হবে, আর রাজস্ব বাড়ানোর চাপও বাড়বে।
এই সংস্করণের শিরোনাম “Resilience, Risk, and Transformation”। প্রথম অধ্যায়ের নাম “Beneath the Resilience: Rising Risks, Unresolved Vulnerabilities”, যার মূল কথা হলো ওপরের স্থিতিশীলতার নিচে ঝুঁকি আর অমীমাংসিত দুর্বলতা জমছে। বিশ্লেষণধর্মী দুটি অধ্যায়ের একটি হেজ ফান্ড ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে, অন্যটি আর্থিক সম্পদের টোকেনাইজেশনের সুযোগ ও ঝুঁকি নিয়ে। অক্টোবরের WEO-তে IMF আরও সতর্ক করেছে, এআই বিনিয়োগের রিটার্ন নিয়ে হঠাৎ ধারণা বদলালে বিনিয়োগ কমে যেতে পারে এবং আর্থিক পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে। সব মিলিয়ে বার্তা হলো, বাজার এখন শান্ত দেখালেও এআই-নির্ভর মূল্যায়ন আর নন-ব্যাংক প্রতিষ্ঠানের ঋণঝুঁকি নজরে রাখা দরকার।
বাংলাদেশ তিন বছরে ৪ থেকে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ পাওয়ার আশা করছে, যদিও IMF অঙ্কটি প্রকাশ করেনি। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার ঋণের শর্তগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে চায়, আর মূল দরকষাকষি হবে ব্যাংকক সভার পর IMF মিশন ঢাকায় এলে। নতুন কর্মসূচি আগামী জানুয়ারিতে শুরু হতে পারে বলে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে আগের এক প্রতিবেদনে ৬ থেকে ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের কথা এসেছিল, তাই অঙ্ক ও সময় নিয়ে সূত্রভেদে ভিন্নতা আছে। অর্থমন্ত্রীর একটি মন্তব্যে বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছিল, কারণ তিনি পুরোনো কর্মসূচি বাতিলের প্রসঙ্গে বলেছিলেন, অথচ অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অঙ্ক নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ ২০২৩ সালে শেখ হাসিনার সরকারের সময় বৈদেশিক মুদ্রা সংকটের মধ্যে IMF কর্মসূচিতে ঢুকেছিল। ফেব্রুয়ারির ১৭ তারিখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতা নেয়। নতুন সরকার পুরোনো ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের কর্মসূচি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, কারণ তাদের মতে এর কিছু শর্ত সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে মেলে না। ওই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ পাঁচ কিস্তিতে মোট ৩.৬ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে। এরপর সরকার নতুন প্যাকেজের জন্য আবেদন করে, যা ৩ জুনের এক বিবৃতিতে IMF-এর বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনার নিশ্চিত করেন। অর্থাৎ ঋণ নেওয়া বন্ধ হয়নি, শর্তের ধরন বদলের দাবি উঠেছে।
IMF যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি ২০২৬ ও ২০২৭ দুই বছরেই ২.৩ শতাংশ ধরেছে। চীনের প্রবৃদ্ধি কমে যথাক্রমে ৪.৫ ও ৪.০ শতাংশ হতে পারে, যার প্রধান কারণ দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা। চীনের জন্য তুলনামূলক হিসাবটা হলো, ২০২৫ সালে দেশটি বেড়েছিল ৫.০ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রকে ধরে রাখছে মূলত এআই-সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ। এই দুই বড় অর্থনীতির গতি বিশ্ববাণিজ্য, পণ্যের দাম আর উন্নয়নশীল দেশগুলোর রপ্তানি আয়ে প্রভাব ফেলে। চীনের ধীরগতি বিশেষ করে কাঁচামাল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তির বিষয়।
IMF ভারতের ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭.০ শতাংশ করেছে। তাদের মতে ভারত এখনো দ্রুত বাড়তে থাকা বড় অর্থনীতিগুলোর একটি, যদিও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও তেলের উচ্চ দামে বিশ্বের অনেক জায়গায় চাপ আছে। নতুন হিসাব জুলাইয়ের চেয়ে ০.৬ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। IMF-এর মতে এর পেছনে আছে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও সেবা খাতের শক্ত গতি। ভারতের মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালে বেড়ে ৫.০ শতাংশ হতে পারে, পরের বছর কমে ৪.৪ শতাংশে নামবে। এই হিসাব অর্থবছর ভিত্তিক। প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের শক্ত প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানি ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
IMF-এর হিসাবে বৈশ্বিক হেডলাইন মূল্যস্ফীতি ২০২৫ সালের ৪.১ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে বেড়ে ৪.৭ শতাংশ হবে, তারপর ২০২৭ সালে নেমে ৪.১ শতাংশে আসবে। এ বছর দাম বাড়ার প্রধান কারণ মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত আর জ্বালানি বাজারে বিঘ্ন। জানুয়ারির পূর্বাভাসে ২০২৬ সালের জন্য এর চেয়ে কম, প্রায় ৩.৮ শতাংশ ধরা হয়েছিল। সেই তুলনায় ছবিটা এখন খারাপ হয়েছে। তেল ও গ্যাসের দাম বাড়লে পরিবহন, উৎপাদন আর খাদ্যের খরচও বাড়ে, আর বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশে তার প্রভাব দ্রুত পড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাই সুদের হার কমানোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বাধ্য হচ্ছে।
এবারের বার্ষিক সভা থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চলছে, শেষ হবে ১৮ অক্টোবর। সভায় বিশ্ব অর্থনীতির পূর্বাভাস, আর্থিক স্থিতিশীলতা, সরকারি ঋণ ও ফিনটেক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। IMF-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সোমবার বলেছেন, এআই অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বাড়ার কারণেই বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের কাছাকাছি টিকে আছে। সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা এই সভায় IMF-এর সঙ্গে আলাদা বৈঠকও করেন। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সেখানে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে কথা বলছে। ফলে এই সভা একদিকে বৈশ্বিক নীতির দিকনির্দেশনা দেয়, অন্যদিকে ঋণগ্রহীতা দেশগুলোর জন্য সরাসরি আলোচনার সুযোগও তৈরি করে।
IMF বলছে, বিশ্ব অর্থনীতি কেবল ধীর বা দ্রুত হচ্ছে না। প্রবৃদ্ধি নতুনভাবে বণ্টিত হচ্ছে, এবং তা নির্ভর করছে যুদ্ধজনিত জ্বালানি ধাক্কা আর এআই-সংক্রান্ত চাহিদার সঙ্গে প্রতিটি দেশের সংযোগের ওপর। এআই বিনিয়োগের বুমে চাঙ্গা অর্থনীতিগুলো মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ঘাটতি অনেকটা পুষিয়ে দিচ্ছে। তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলো তাই বেশি চাপে, আর প্রযুক্তি রপ্তানি বা এআই অবকাঠামোর সঙ্গে জড়িত দেশগুলো তুলনামূলক ভালো আছে। IMF-এর মূল ধারণা হলো হরমুজ প্রণালি ২০২৭ সালের মার্চে আবার খুলবে এবং ২০২৭ সালের অক্টোবরের মধ্যে পরিস্থিতি মোটামুটি যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরবে। এই অনুমান ভুল হলে পূর্বাভাসও বদলে যেতে পারে।
IMF আশা করছে ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতি ৩.১ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩.৪ শতাংশ হারে বাড়বে। জুলাইয়ের পূর্বাভাসের তুলনায় ২০২৬ সালের হিসাব ০.১ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছে, আর ২০২৭ সালের হিসাব অপরিবর্তিত আছে। IMF-এর হিসাবে ২০২৫ সালে বিশ্ব অর্থনীতি বেড়েছিল ৩.৫ শতাংশ। তার মানে এ বছর প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমছে। উন্নত অর্থনীতিতে ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি ২.১ শতাংশ হতে পারে, পরের বছর তা নেমে ১.৮ শতাংশ হবে। উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালে ৩.৭ শতাংশে নামবে, তারপর ২০২৭ সালে ৪.৪ শতাংশে উঠবে। প্রতিবেদনের শিরোনাম “Resilience Under Strain, Urgent Choices”। অর্থাৎ অর্থনীতি চাপের মধ্যেও টিকে আছে, কিন্তু নীতিনির্ধারকদের দ্রুত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
COP31 হবে তুরস্কের আন্তালিয়ায়, ৯ থেকে ২০ নভেম্বর। আয়োজনের কাঠামোটা অস্বাভাবিক। তুরস্ক আয়োজক ও সভাপতি, আর অস্ট্রেলিয়া দায়িত্ব পেয়েছে "আলোচনার সভাপতি" হিসেবে। নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন হবে ১১ ও ১২ নভেম্বর, আয়োজক প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। এরদোয়ান জানিয়েছেন, ১৯০টির বেশি দেশ থেকে এক লাখের বেশি দর্শনার্থী আসার আশা করা হচ্ছে। আলোচ্য বিষয়ের দিক থেকে একে "বাস্তবায়নের COP" বলা হচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, জলবায়ু অর্থায়ন যথেষ্ট নয়, তাই এবার সেদিকেই নজর থাকবে। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসা বাস্তবে কতটা এগোয়, সেটাও দেখার বিষয়।
১৬ সেপ্টেম্বর ফেড ১২-০ ভোটে সুদের হার ০.২৫ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩.৭৫ থেকে ৪.০০ শতাংশ করেছে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর এটাই প্রথম বৃদ্ধি। ফেড চেয়ার কেভিন ওয়ার্শ মে মাসে দায়িত্ব নিয়েছেন। কর্মকর্তাদের পূর্বাভাসের মধ্যক হিসাবে বছরের শেষে হার ৪.১ শতাংশ হবে, অর্থাৎ আরও একবার বাড়ানো হতে পারে। জ্বালানির দামের কারণে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বেড়েছে, এটিও চাপ তৈরি করছে। একা ফেডই নয়, ইসিবি ও অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সেপ্টেম্বরে সুদ বাড়িয়েছে। দুর্বল জব ডেটার কারণে বাজার এখন পরবর্তী বৃদ্ধি অক্টোবরের বদলে ডিসেম্বরে ধরছে। আজ ১৪ অক্টোবর সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ হওয়ার কথা। ফেডের পরবর্তী বৈঠক ২৭-২৮ অক্টোবর।
শি জিনপিং ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রীয় সফরে ছিলেন। এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এটি তাঁর প্রথম এমন সফর। বৈঠকের আগেই দুই দেশ বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি আরও দুই মাস বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত করেছিল। আসল সমস্যাগুলোর সমাধান হয়নি। শুল্ক, বিরল খনিজ, কৃষিপণ্য কেনা, তাইওয়ান ও উন্নত চিপের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। শি যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার আহ্বান জানান। ট্রাম্প বলেছেন, নভেম্বরে আবার শির সঙ্গে দেখা হবে। সম্ভাব্য মঞ্চ হলো নভেম্বরে শেনজেনে এপেক সম্মেলন এবং ডিসেম্বরে মায়ামিতে জি-২০। মোটকথা, সম্পর্ক সামলে রাখা গেছে, কিন্তু বড় কোনো সমঝোতা হয়নি।
দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাই FZ1073 ফ্লাইটে ১৭৪ জন ছিলেন। ৩০ সেপ্টেম্বর বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য অনুযায়ী তদন্তে দেখা গেছে, কো-পাইলট জরুরি কুড়াল দিয়ে ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ করে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এটিকে সন্ত্রাসী কাজের চেষ্টা বলা হয়েছে। বিমানটি ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে গিয়েছিল। নেতানিয়াহু ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে এবং যাত্রীদের বড় দুর্ঘটনা ঠেকানোর কৃতিত্ব দিয়েছেন। এরপর ফ্লাইদুবাই ইসরায়েলগামী সব ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়। দুবাইয়ে আটকে পড়া ইসরায়েলিদের ফেরাতে ইসরায়েল উদ্ধার ফ্লাইট চালায়। মোটিভ এবং কারও সঙ্গে যোগসাজশ ছিল কি না, তদন্ত তা এখনো খতিয়ে দেখছে।
৩০ জুলাই বোর্ড অব পিস ঘোষণা করে, হামাস ধাপে ধাপে অস্ত্র সমর্পণে রাজি হয়েছে। এটি বড় ঘটনা ছিল, কারণ গাজার কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর এই প্রথম নিরস্ত্র হতে রাজি হওয়া। কিন্তু বাস্তবায়ন সহজ নয়। ভারী অস্ত্র সমর্পণ ও সুড়ঙ্গ অকার্যকর করার কাজ পরে হবে এবং তাতে ২০০ থেকে ৩৫০ দিন লাগতে পারে। ইসরায়েল খসড়াটিকে অগ্রহণযোগ্য বলেছে। এক বছর পূর্তির পর পরিস্থিতি নিয়ে ৮ অক্টোবরের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু ও তাঁর ডানপন্থী সরকারের প্রতিরোধ পুনর্গঠনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হামাস নিরস্ত্র হতে রাজি হওয়ার পর ইসরায়েলের কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা পরিকল্পনার নিন্দাও শুরু করেছেন। ইসরায়েলে নির্বাচনের আগে বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠছে।
৮ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র সাবেক ভেনেজুয়েলান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে নির্যাতনের ষড়যন্ত্রের নতুন অভিযোগ দাখিল করেছে। অভিযোগে নয়জন ভুক্তভোগীর কথা আছে, যাঁদের তিনজন মার্কিন নাগরিক। এর আগেই তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও অস্ত্র সংক্রান্ত মামলা ছিল। জানুয়ারির ৩ তারিখ কারাকাসের বাড়িতে মার্কিন সামরিক অভিযানে তাঁদের আটক করে নিউইয়র্কে নেওয়া হয়। আগামী জুনে নিউইয়র্কে বিচার শুরুর কথা। দুজনই ব্রুকলিনের কারাগারে আছেন। মাদুরো নিজেকে যুদ্ধবন্দী বলছেন। একই দিন আদালত অসুস্থতার কারণে ফ্লোরেসকে বাড়িতে আটক রাখার আবেদন নাকচ করেছে। মাদুরোর আইনজীবী নতুন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ভেনেজুয়েলায় এখন ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়েছে।
যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই। মঙ্গলবার রাতে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কিয়েভের CHP-4 বিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি নয়তলা আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। একজন নিহত ও ১৩ জন আহত হন। জেলেনস্কি বলেছেন, টানা দ্বিতীয় রাতে পশ্চিমা মিত্ররা আগাম সতর্কবার্তা দেয়নি। তবে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া এখনো চলছে। রাজনৈতিক দিকেও টানাপোড়েন আছে। রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের ডিজেল চুক্তি নিয়ে ১২ জন মার্কিন সিনেটর দ্বিদলীয় চিঠিতে চুক্তিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে এটি মস্কোর জন্য উপহার। সিএনএনের শিরোনাম অনুযায়ী ট্রাম্প এই চুক্তি নিয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে বলেছেন, ইউক্রেনের নতুন নেতা দরকার। ফলে শান্তি আলোচনার চেয়ে এখন হামলার খবরই বেশি আসছে।
যুদ্ধের আগে বিশ্বের তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালি দিয়ে যেত। প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একে ইতিহাসের অন্যতম বড় জ্বালানি ধাক্কা বলা হচ্ছে। ১৯ মার্চ ব্রেন্টের দাম উঠেছিল ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারে। এরপর দাম বারবার ওঠানামা করেছে। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ আবার চালু করলে ব্রেন্ট ৮৪ ডলারের ওপরে ওঠে। অন্য এক সময় দাম ১০০ ডলারের ওপরে ছিল, আর বিশ্লেষকেরা বলছেন, শিরোনাম বদলালেই এক দিনে কয়েক ডলার ওঠানামা হয়। ক্ষতির ধাক্কা অর্থনীতিতেও পড়েছে। ইউরোপে মূল্যস্ফীতি সামলানোর লড়াই ২০২৭ সাল পর্যন্ত গড়াতে পারে, আর ভারতের তেল আমদানি বিল ৪৮ শতাংশ বেড়েছে। আজকের সঠিক দাম জানতে লাইভ বাজারদর দেখে নেওয়াই ভালো।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি। মাঝখানে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, কিন্তু জুলাইয়ে ট্রাম্প জানান, জুনের সেই যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে, যদিও আলোচনা চলবে। এখন পরিস্থিতি আটকে আছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায়। এর মধ্যেই ৮ অক্টোবর তুর্কমেনিস্তানে পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বলেন, যুদ্ধ থামাতে মস্কো সাধ্যমতো সব করবে। পেজেশকিয়ান জানান, ইরান আলোচনার টেবিল ছাড়বে না, যদিও তাঁর অভিযোগ, প্রতিবার আলোচনার পরই যুক্তরাষ্ট্র নতুন হামলা চালায়। একটি জটিলতাও আছে। ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান রাশিয়াকে ড্রোন ও স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে, আর রাশিয়া ইরানকে তথ্য দিচ্ছে। তাই রাশিয়াকে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখা কঠিন।

