- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- মধ্যযুগের বাংলার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশ ও উন্নতির জন্য সুলতানি ও মুঘল শাসনকালের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ বিষয়ে প্রথমেই যাঁর নাম উল্লেখ করা প্রয়োজন তিনি হলেন ইলিয়াস শাহি বংশের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ (১৩৯৩-১৪১১ খ্রিষ্টাব্দ)। তাঁর শাসনকালেই প্রথম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর প্রণয়মূলক কাব্য 'ইউসুফ-জুলেখা' ফার্সি রচনা থেকে অনুবাদ করেন। সুলতানি যুগে আরও কয়েকজন কবি ফার্সি কাব্যের অনুবাদ করেছেন। তাঁদের মধ্যে দৌলত উজির বাহরাম খান ও দোনা গাজীর নাম উল্লেখযোগ্য।
বাংলা ভাষায় ঐতিহাসিক সাহিত্য রচনার পথপ্রদর্শক হিসেবে হিন্দু ও মুসলমান উভয়েরই অবদান উল্লেখযোগ্য। বিজয়কাব্য রচয়িতাদের মধ্যে বিখ্যাত ছিলেন 'রসুল বিজয়' কাব্য রচয়িতা জয়নুদ্দীন। বাংলার মুসলমান কবিরা পদাবলি রচনা করেন। চাঁদ কাজী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম পদাবলি কাব্যের স্রষ্টা। পিরের মাহাত্ম্য বর্ণনা করে এ যুগে মুসলমান কবিরা অনেক কাব্য বাংলায় রচনা করেন। বাংলা ভাষায় মুসলমানরা সঙ্গীতবিদ্যার চর্চাও করেছিলেন। বাংলা সাহিত্যে সঙ্গীতবিদ্যার ওপর রচিত প্রথম গ্রন্থ 'রাগমালা' রচনা করেছিলেন কবি ফয়জুল্লাহ্। কবি মোজাম্মেল 'নীতিশাস্ত্র বার্তা' ও 'সাতনামা' গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।
বাংলা ভাষার সমৃদ্ধি ও সাহিত্যের শ্রীবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও মুসলমান কবিদের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। বহু আরবি ও ফার্সি শব্দ তাঁরা বাংলা ভাষায় ব্যবহার করেছেন। আল্লাহ, খোদা, নবি, পয়গম্বর, কিতাব ইত্যাদি বহু শব্দ সে সময়ের মুসলমান কবি-লেখকদের ব্যবহারের ফলে বাংলা শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ হয়েছে। একইভাবে ভগবান, স্রষ্টা, ঈশ্বর, দেব-দেবী ইত্যাদি বহু শব্দ ব্যবহার করেছেন সংস্কৃত ও আদি বাংলার কবিগণ।
সুলতানি যুগে হিন্দু কবিরাও সাহিত্য ক্ষেত্রে যথেষ্ট অবদান রেখে গেছেন। এক্ষেত্রে শাসকবর্গের উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতা কবি-সাহিত্যিকদের বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। বাংলা সাহিত্যের উন্নতি ও বিকাশ হুসেন শাহের শাসনকালকে ইতিহাসে স্মরণীয় করে রেখেছে। তাঁর উদার পৃষ্ঠপোষকতা নিঃসন্দেহে বাংলা সাহিত্যের শ্রীবৃদ্ধি সাধন করেছে। এ যুগের বিখ্যাত কবি ও লেখকগণের মধ্যে রূপ গোস্বামী, সনাতন গোস্বামী, মালাধর বসু, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস ও যশোরাজ খান উল্লেখযোগ্য ছিলেন। এ সময়ে মালাধর বসু 'শ্রীমদঙ্গবাৎ' ও 'পুরাণ' বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন। সুলতান হুসেন শাহ ও নাসিরউদ্দিন নুসরত শাহের পৃষ্ঠপোষকতায় কবীন্দ্র পরমেশ্বর 'মহাভারত' বাংলায় অনুবাদ করেন।
বৈষ্ণব কবি হিসেবে বৃন্দাবন দাসের নাম সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। বাংলা ভাষায় তিনিই সর্বপ্রথম শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনচরিত গ্রন্থ 'চৈতন্য-ভগবত' রচনা করেন। চন্দ্রাবতী 'মনসা মঙ্গল' কাব্য রচনা করেছিলেন।
সংস্কৃত সাহিত্যেও মধ্যযুগের শাসকদের যথেষ্ট অবদান ছিল। সংস্কৃত ভাষার সাথে বাংলা ভাষার সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। এজন্য অনেক শাসক এর প্রতি আগ্রহী ছিলেন। তাঁদের অনেকে ব্যক্তিগতভাবে সংস্কৃত ভাষার চর্চাও করতেন। মুসলমান শাসনকালে বাংলা সংস্কৃত ও ফার্সি সাহিত্যের এক বিরাট কেন্দ্র ছিল। শুধু বাংলা ও সংস্কৃতই নয়, আরবি ও ফার্সি কাব্যের চর্চাও সুলতানি যুগে ছিল।
মুঘল যুগে বাংলার সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও যথেষ্ট উন্নতি লক্ষ করা যায়। তবে মুঘল শাসকগণ সুলতানি যুগের শাসকদের মতো ভাষা ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ কোনো সহযোগিতা করেননি। বাংলার জমিদারগণ স্বীয় প্রচেষ্টায় সে ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখেছিলেন।
মধ্যযুগে প্রতিবেশী আরাকানের সঙ্গে বাংলার রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল। ফলে আরাকানে বাংলা সাহিত্যের প্রসার ঘটতে শুরু করে। আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন দৌলত কাজী। আলাওল ছিলেন রাজসভার আর একজন কবি। তাঁর ছয়টি কাব্যগ্রন্থের মধ্যে 'পদ্মাবতী' ছিল সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনি কয়েকটি ফার্সি কাব্যগ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ করেন। এছাড়া 'রাগনামা' নামে একটি সঙ্গীতশাস্ত্র বিষয়ক গ্রন্থও তিনি রচনা করেছিলেন।
বাহরাম খান রচনা করেন 'লাইলী-মজনু' কাব্যগ্রন্থ। 'জঙ্গনামা' ও 'হিতজ্ঞান বাণী' গ্রন্থগুলো কবি কাজী হায়াৎ মাহমুদ রচিত। কবি শাহ গরীবুল্লাহ ছিলেন একজন প্রসিদ্ধ পুঁথি সাহিত্যিক।
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ


