Uddoyon

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (প্রশ্নোত্তর)

এই বিশ্বকাপের ফরম্যাট কেমন? আগের চেয়ে কী আলাদা?

এবারের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো দলের সংখ্যা। এটাই প্রথম বিশ্বকাপ যেখানে ৪৮টি দল খেলছে, যা আগের সাত আসরের চেয়ে ১৬টি দল বেশি। দলগুলোকে ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে, প্রতি গ্রুপে চারটি দল। গ্রুপ পর্বের পর নিয়ম একটু জটিল হয়ে গেছে। প্রতি গ্রুপ থেকে প্রথম দুটি দল সরাসরি নকআউটে যাবে, আর সেরা তৃতীয় স্থানের আটটি দলও সুযোগ পাবে। এর মানে মোট ৩২টি দল নকআউট রাউন্ডে খেলবে, যা ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার নতুন একটা রাউন্ড অফ ৩২ যুক্ত হলো। মোট ম্যাচ সংখ্যা ৬৪ থেকে বেড়ে ১০৪ হয়েছে, এবং টুর্নামেন্টের মোট সময়কাল ৩৯ দিন, যা আগের ৩২ দিনের তুলনায় বেশি। ফাইনালে ওঠা দলগুলোকে এখন সাতটার বদলে আটটা ম্যাচ খেলতে হবে। ফিফা এমন একটা ব্যবস্থা করেছে যাতে শীর্ষ র‍্যাংকড দলগুলো সেমিফাইনালের আগে একে অপরের মুখোমুখি না হয়। যেমন স্পেন আর আর্জেন্টিনা, বা ফ্রান্স আর ইংল্যান্ড আলাদা পাথওয়েতে রাখা হয়েছে, যাতে এই চার দল গ্রুপ জিতলে সেমিফাইনালের আগে দেখা না হয়।

১৮ জুন ২০২৬

সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

প্রশ্ন:

অক্টোবর ২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে কী বলা হয়েছে?

উত্তর:

IMF আশা করছে ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতি ৩.১ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩.৪ শতাংশ হারে বাড়বে। জুলাইয়ের পূর্বাভাসের তুলনায় ২০২৬ সালের হিসাব ০.১ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছে, আর ২০২৭ সালের হিসাব অপরিবর্তিত আছে। IMF-এর হিসাবে ২০২৫ সালে বিশ্ব অর্থনীতি বেড়েছিল ৩.৫ শতাংশ। তার মানে এ বছর প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমছে। উন্নত অর্থনীতিতে ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি ২.১ শতাংশ হতে পারে, পরের বছর তা নেমে ১.৮ শতাংশ হবে। উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালে ৩.৭ শতাংশে নামবে, তারপর ২০২৭ সালে ৪.৪ শতাংশে উঠবে। প্রতিবেদনের শিরোনাম “Resilience Under Strain, Urgent Choices”। অর্থাৎ অর্থনীতি চাপের মধ্যেও টিকে আছে, কিন্তু নীতিনির্ধারকদের দ্রুত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

প্রশ্ন:

২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতি কোন দুটি বিপরীত শক্তির টানাপোড়েনে আছে?

উত্তর:

IMF বলছে, বিশ্ব অর্থনীতি কেবল ধীর বা দ্রুত হচ্ছে না। প্রবৃদ্ধি নতুনভাবে বণ্টিত হচ্ছে, এবং তা নির্ভর করছে যুদ্ধজনিত জ্বালানি ধাক্কা আর এআই-সংক্রান্ত চাহিদার সঙ্গে প্রতিটি দেশের সংযোগের ওপর। এআই বিনিয়োগের বুমে চাঙ্গা অর্থনীতিগুলো মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ঘাটতি অনেকটা পুষিয়ে দিচ্ছে। তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলো তাই বেশি চাপে, আর প্রযুক্তি রপ্তানি বা এআই অবকাঠামোর সঙ্গে জড়িত দেশগুলো তুলনামূলক ভালো আছে। IMF-এর মূল ধারণা হলো হরমুজ প্রণালি ২০২৭ সালের মার্চে আবার খুলবে এবং ২০২৭ সালের অক্টোবরের মধ্যে পরিস্থিতি মোটামুটি যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরবে। এই অনুমান ভুল হলে পূর্বাভাসও বদলে যেতে পারে।

প্রশ্ন:

২০২৬ সালের IMF-বিশ্বব্যাংক বার্ষিক সভা কোথায় হচ্ছে, আর সেখানে কী আলোচনা হচ্ছে?

উত্তর:

এবারের বার্ষিক সভা থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চলছে, শেষ হবে ১৮ অক্টোবর। সভায় বিশ্ব অর্থনীতির পূর্বাভাস, আর্থিক স্থিতিশীলতা, সরকারি ঋণ ও ফিনটেক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। IMF-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সোমবার বলেছেন, এআই অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বাড়ার কারণেই বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের কাছাকাছি টিকে আছে। সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা এই সভায় IMF-এর সঙ্গে আলাদা বৈঠকও করেন। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সেখানে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে কথা বলছে। ফলে এই সভা একদিকে বৈশ্বিক নীতির দিকনির্দেশনা দেয়, অন্যদিকে ঋণগ্রহীতা দেশগুলোর জন্য সরাসরি আলোচনার সুযোগও তৈরি করে।

প্রশ্ন:

বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ে IMF কী পূর্বাভাস দিয়েছে?

উত্তর:

IMF-এর হিসাবে বৈশ্বিক হেডলাইন মূল্যস্ফীতি ২০২৫ সালের ৪.১ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে বেড়ে ৪.৭ শতাংশ হবে, তারপর ২০২৭ সালে নেমে ৪.১ শতাংশে আসবে। এ বছর দাম বাড়ার প্রধান কারণ মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত আর জ্বালানি বাজারে বিঘ্ন। জানুয়ারির পূর্বাভাসে ২০২৬ সালের জন্য এর চেয়ে কম, প্রায় ৩.৮ শতাংশ ধরা হয়েছিল। সেই তুলনায় ছবিটা এখন খারাপ হয়েছে। তেল ও গ্যাসের দাম বাড়লে পরিবহন, উৎপাদন আর খাদ্যের খরচও বাড়ে, আর বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশে তার প্রভাব দ্রুত পড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাই সুদের হার কমানোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বাধ্য হচ্ছে।

প্রশ্ন:

ভারতের প্রবৃদ্ধি নিয়ে IMF কী বলেছে?

উত্তর:

IMF ভারতের ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭.০ শতাংশ করেছে। তাদের মতে ভারত এখনো দ্রুত বাড়তে থাকা বড় অর্থনীতিগুলোর একটি, যদিও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও তেলের উচ্চ দামে বিশ্বের অনেক জায়গায় চাপ আছে। নতুন হিসাব জুলাইয়ের চেয়ে ০.৬ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। IMF-এর মতে এর পেছনে আছে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও সেবা খাতের শক্ত গতি। ভারতের মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালে বেড়ে ৫.০ শতাংশ হতে পারে, পরের বছর কমে ৪.৪ শতাংশে নামবে। এই হিসাব অর্থবছর ভিত্তিক। প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের শক্ত প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানি ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন:

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অর্থনীতি নিয়ে IMF-এর পূর্বাভাস কী?

উত্তর:

IMF যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি ২০২৬ ও ২০২৭ দুই বছরেই ২.৩ শতাংশ ধরেছে। চীনের প্রবৃদ্ধি কমে যথাক্রমে ৪.৫ ও ৪.০ শতাংশ হতে পারে, যার প্রধান কারণ দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা। চীনের জন্য তুলনামূলক হিসাবটা হলো, ২০২৫ সালে দেশটি বেড়েছিল ৫.০ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রকে ধরে রাখছে মূলত এআই-সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ। এই দুই বড় অর্থনীতির গতি বিশ্ববাণিজ্য, পণ্যের দাম আর উন্নয়নশীল দেশগুলোর রপ্তানি আয়ে প্রভাব ফেলে। চীনের ধীরগতি বিশেষ করে কাঁচামাল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তির বিষয়।

প্রশ্ন:

বাংলাদেশ কেন IMF-এর আগের ঋণ কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে এল?

উত্তর:

বাংলাদেশ ২০২৩ সালে শেখ হাসিনার সরকারের সময় বৈদেশিক মুদ্রা সংকটের মধ্যে IMF কর্মসূচিতে ঢুকেছিল। ফেব্রুয়ারির ১৭ তারিখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতা নেয়। নতুন সরকার পুরোনো ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের কর্মসূচি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, কারণ তাদের মতে এর কিছু শর্ত সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে মেলে না। ওই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ পাঁচ কিস্তিতে মোট ৩.৬ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে। এরপর সরকার নতুন প্যাকেজের জন্য আবেদন করে, যা ৩ জুনের এক বিবৃতিতে IMF-এর বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনার নিশ্চিত করেন। অর্থাৎ ঋণ নেওয়া বন্ধ হয়নি, শর্তের ধরন বদলের দাবি উঠেছে।

প্রশ্ন:

বাংলাদেশের নতুন ঋণ নিয়ে আলোচনা এখন কোন পর্যায়ে আছে?

উত্তর:

বাংলাদেশ তিন বছরে ৪ থেকে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ পাওয়ার আশা করছে, যদিও IMF অঙ্কটি প্রকাশ করেনি। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার ঋণের শর্তগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে চায়, আর মূল দরকষাকষি হবে ব্যাংকক সভার পর IMF মিশন ঢাকায় এলে। নতুন কর্মসূচি আগামী জানুয়ারিতে শুরু হতে পারে বলে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে আগের এক প্রতিবেদনে ৬ থেকে ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের কথা এসেছিল, তাই অঙ্ক ও সময় নিয়ে সূত্রভেদে ভিন্নতা আছে। অর্থমন্ত্রীর একটি মন্তব্যে বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছিল, কারণ তিনি পুরোনো কর্মসূচি বাতিলের প্রসঙ্গে বলেছিলেন, অথচ অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অঙ্ক নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

প্রশ্ন:

অক্টোবর ২০২৬ সালের গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্টের বিষয়বস্তু কী?

উত্তর:

এই সংস্করণের শিরোনাম “Resilience, Risk, and Transformation”। প্রথম অধ্যায়ের নাম “Beneath the Resilience: Rising Risks, Unresolved Vulnerabilities”, যার মূল কথা হলো ওপরের স্থিতিশীলতার নিচে ঝুঁকি আর অমীমাংসিত দুর্বলতা জমছে। বিশ্লেষণধর্মী দুটি অধ্যায়ের একটি হেজ ফান্ড ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে, অন্যটি আর্থিক সম্পদের টোকেনাইজেশনের সুযোগ ও ঝুঁকি নিয়ে। অক্টোবরের WEO-তে IMF আরও সতর্ক করেছে, এআই বিনিয়োগের রিটার্ন নিয়ে হঠাৎ ধারণা বদলালে বিনিয়োগ কমে যেতে পারে এবং আর্থিক পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে। সব মিলিয়ে বার্তা হলো, বাজার এখন শান্ত দেখালেও এআই-নির্ভর মূল্যায়ন আর নন-ব্যাংক প্রতিষ্ঠানের ঋণঝুঁকি নজরে রাখা দরকার।

প্রশ্ন:

বৈশ্বিক সরকারি ঋণ নিয়ে IMF কেন উদ্বিগ্ন?

উত্তর:

এপ্রিলের ফিসক্যাল মনিটরে IMF জানায়, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক সরকারি ঋণ জিডিপির ৯৩.৯ শতাংশে পৌঁছেছে এবং ২০২৯ সালের মধ্যে তা ১০০ শতাংশে উঠতে পারে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেখা যায়নি। বৈশ্বিক আর্থিক বাফার এক দশক আগের জিডিপির ১ শতাংশের বেশি থেকে এখন প্রায় শূন্যে নেমেছে। অর্থাৎ নতুন ধাক্কা এলে সামলানোর সুযোগ কম। অক্টোবরের WEO-তেও বলা হয়েছে, অনেক দেশের বাজেট ঘাটতি কোভিডের আগের তুলনায় অনেক বেশি এবং ঋণের খরচ বাড়ছে। IMF তাই বাফার পুনর্গঠনে "শক্ত ও সুচিন্তিত পদক্ষেপ" নিতে বলেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এর অর্থ হলো, বাইরে থেকে ঋণ পাওয়া কঠিন ও ব্যয়বহুল হবে, আর রাজস্ব বাড়ানোর চাপও বাড়বে।