- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস (খ্রিষ্টপূর্বাব্দ ৩২৬-১২০৪ খ্রিষ্টাব্দ)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
মৌর্য্য শাসনের পূর্বে প্রাচীন বাংলার রাজ্যশাসন পদ্ধতি সম্বন্ধে বিস্তারিত কোনো বিবরণ পাওয়া যায় না। তৎকালীন কৌম সমাজে রাজা বা রাজত্ব না থাকলেও শাসন পদ্ধতি হিসাবে সবধরনের পঞ্চায়েতী প্রথার প্রচলন ছিল। যে প্রথায় নির্বাচিত দলনেতা স্থানীয় শাসনব্যবস্থার নেতৃত্ব দিতেন। খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকের পূর্বেই বাংলায় রাজতন্ত্রের বিকাশ ঘটেছিল।
মৌর্য্যদের সময় থেকে বাংলার শাসন-পদ্ধতির পরিষ্কার বিবরণ পাওয়া যায়। আনুমানিক দুই-তিন শতকে উত্তরবঙ্গ তথা পুন্ড্রবর্ধন মৌর্য সাম্রাজের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। বাংলায় মৌর্য শাসনের কেন্দ্র ছিল পুন্ড্রনগর যা বর্তমান বগুড়ার মহাস্থানগড়ে। 'মহামাত্র' নামক একজন রাজপ্রতিনিধির মাধ্যমে তখন বাংলায় মৌর্য শাসন-কার্য পরিচালিত হতো। তবে বাংলার কিছু অংশ সরাসরি মৌর্য্যদের শাসনাধীন ছিল না। গুপ্ত আমলে মহারাজা উপাধিধারী মহাসামন্তগণ গুপ্ত সম্রাটের কর্তৃত্বকে মেনে নিয়ে প্রায় স্বাধীন ও আলাদাভাবে শাসন করতেন।
সরাসরি গুপ্ত সম্রাটদের অধীন বাংলা ভূখণ্ডের অংশগুলো কয়েকটি প্রশাসনিক ভুক্তিতে বিভক্ত ছিল। প্রত্যেক 'ভুক্তি' আবার কয়েকটি বিষয়ে, প্রত্যেক বিষয় কয়েকটি মণ্ডলে, প্রত্যেক মণ্ডল কয়েকটি বীথিতে এবং প্রত্যেকটি বীথি কয়েকটি গ্রামে বিভক্ত ছিল। গ্রামই ছিল সবচেয়ে ছোট শাসন বিভাগ।
বর্তমান সময়ের বিভাগের সঙ্গে তুলনীয় ভুক্তির শাসনকর্তা গুপ্ত রাজা নিজেই নিয়োগ করতেন। সেখানে রাজকুমার বা রাজপরিবার থেকে 'উপরিক' তথা ভুক্তিপতি নিয়োগে প্রাধান্য দেওয়া হতো। বর্তমান সময়ের জেলার সাথে তুলনীয় বিষয়ের শাসনকর্তা নিয়োগ করতেন উপরিক মহারাজা বা সম্রাট স্বয়ং।
ষষ্ঠ শতকে উত্তর-পশ্চিম বাংলায় গুপ্তবংশের শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে বঙ্গ স্বাধীন ও আলাদা রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তখন বঙ্গে যে নতুন ব্যবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, তা মূলত গুপ্ত যুগের প্রাদেশিক শাসনের মতোই ছিল। গুপ্তদের সামন্তনির্ভর শাসন এ যুগে আরও প্রসার লাভ করেছে। গুপ্তরাজাদের মতো বাংলার সামন্ত রাজাগণও 'মহারাজাধিরাজ' উপাধি গ্রহণ করতেন। এরাও বিভিন্ন শ্রেণির বহুসংখ্যক রাজকর্মচারী নিয়োগ করতেন।
গুপ্ত পরবর্তীকালে পাল যুগেও শাসনব্যবস্থার মূল কথা ছিল রাজতন্ত্র। কেন্দ্রীয় সরকারের শাসন বিভাগের সর্বোচ্চ ছিলেন রাজা স্বয়ং। তবে রাজপরিবারের অন্যান্য নিকটাত্মীয়ের মধ্যে সিংহাসন নিয়ে বিরোধ ও সংঘর্ষ হতো। এ সময় থেকে সর্বপ্রথম একজন প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান সচিবের উল্লেখ পাওয়া যায়। তিনি ছিলেন সর্বপ্রধান রাজকর্মচারী।
রাজ্যের সকল প্রকার শাসনকার্যের জন্য কতকগুলো নির্দিষ্ট শাসন বিভাগ ছিল। এর প্রতিটি বিভাগের জন্য একজন অধিপতি নিযুক্ত থাকতেন। রাজা, মন্ত্রী ও অমাত্যগণের সাহায্যে কেন্দ্রীয় শাসন পরিচালনা করতেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ের বিভিন্ন উৎস ছিল। এর মধ্যে নানা প্রকার কর ছিল প্রধান। উৎপন্ন শস্যের ওপর বিভিন্ন ধরনের কর ধার্য হতো। যেমন-ভাগ, ভোগ, হিরণ্য, উপরি কর ইত্যাদি। কতগুলো উৎপন্ন দ্রব্যের এক ষষ্ঠাংশ রাজস্ব হিসেবে আদায় করা হতো। দস্যু ও তস্করের ভয় থেকে রক্ষার জন্য দেয় কর, ব্যবসা-বাণিজ্যে শুল্ক, খেয়াঘাট থেকে আদায়কৃত মাশুল ইত্যাদি ছিল রাজ্যের আয়ের কয়েকটি উৎস। বনভূমি ছিল রাজ্যের সম্পদ। যা রাজ্যের আয়ের একটি অন্যতম উৎস ছিল।
বিভিন্ন রকমের রাজস্ব আদায়ের জন্য বিভিন্ন শ্রেণির কর্মচারী নিযুক্ত ছিল। রাজস্ব আয়-ব্যয়ের হিসাব ও দলিল বিভাগ দেখাশোনা করার ব্যবস্থা ছিল। ভূমি রাজস্বের পরিমাণ ঠিক করার জন্য জমি জরিপের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতো। রাজস্ব আদায় করা হতো মুদ্রায় বা শস্যের মাধ্যমে। পাল শাসনামলে বিচার বিভাগ, পুলিশ বিভাগ, গুপ্তচর বাহিনী, সামরিক বাহিনী (পদাতিক, অশ্বারোহী, হস্তী ও রণতরী) ছিল।
গুপ্তদের মতো পালদের সময়েও সামন্ত রাজাদের উল্লেখ পাওয়া যায়। এদের নানা উপাধি ছিল। কেন্দ্রীয় শাসনের শৌর্য ও বীর্য সামন্তদের অধীনতায় থাকতে বাধ্য করলেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের দুর্বলতার সুযোগে এসব রাজারা স্বাধীনতা ঘোষণা করত। পাল শাসকদের শক্তিও অনেকাংশে এরূপ সামন্তরাজদের সাহায্য ও সহযোগিতার উপর নির্ভর করত।
পাল রাজ্যে যে শাসন-পদ্ধতি প্রচলিত হয়েছিল তা দক্ষিণ-পূর্ববাংলা ও সেন রাজত্বকালে রাজ্য শাসনের আদর্শ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। এ সময়ে রাজা বা রাণীকে রাজকীয় মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। শাসনকার্যে যুবরাজদের যথেষ্ট প্রভাব ছিল। জ্যেষ্ঠ রাজকুমার যুবরাজ হতেন।
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ
পাল রাজাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হিসেবে নিচের কোন নামটি অধিক যুক্তিযুক্ত?
ত্রিশক্তির সংঘর্ষ শুরু হয় কখন?
ইতিহাসে 'ত্রিশক্তি' সংঘর্ষ হয়েছিল কেন?
ধর্মপালের সময়ে উত্তর ভারতে আধিপত্য বিস্তারে কয়টি রাজবংশের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছিল?
কোন সময়ে ভারতে গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়?
কোনটি 'গঙ্গারিডই' জাতির বাসস্থান ছিল?
ত্রিশক্তি সংঘর্ষের প্রথম যুদ্ধে প্রতিহার বংশের রাজার সাথে পাল বংশের কোন রাজার যুদ্ধ হয়?
মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
শশাংক মালবরাজ দেবগুপ্তের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করেন-
i. পুষ্যভূতিদের দমন করতে
ii. মৌখরীদের দমন করতে
iii. রাজ্যশ্রীকে বন্দী করতে
নিচের কোনটি সঠিক?
শশাংক মালবরাজ দেবগুপ্তের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করেন-
i. পুষ্যভূতিদের দমন করতে
ii. মৌখরীদের দমন করতে
iii. রাজ্যশ্রীকে বন্দী করতে
নিচের কোনটি সঠিক?


