- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদের প্রশ্ন সমাধান [৩০.১০.২০২৬]
'ব্যাকরণ' শব্দটি হলো-
বাংলা ব্যাকরণে শব্দের উৎপত্তি ও গঠন অনুসারে বাংলা শব্দকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এসব শ্রেণির মধ্যে তৎসম, অর্ধতৎসম, তদ্ভব ও দেশি শব্দ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বাংলা ভাষার শব্দভান্ডারে এই চার শ্রেণির শব্দের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ‘ব্যাকরণ’ শব্দটি কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, তা জানতে হলে শব্দটির উৎপত্তি ও ভাষাগত ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। ‘ব্যাকরণ’ শব্দটি তৎসম শব্দ। কারণ, শব্দটি সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে এবং এর মূল সংস্কৃত রূপ ও বাংলা রূপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো ধ্বনিগত পরিবর্তন ঘটেনি।
তৎসম শব্দ কাকে বলে?
তৎসম শব্দের অর্থ হলো সংস্কৃতের সমান বা সংস্কৃতের অনুরূপ। যেসব শব্দ সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে এবং বাংলা ভাষায় ব্যবহারের সময় মূলত সংস্কৃত শব্দের রূপ ও উচ্চারণ বজায় রেখেছে, সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। ‘তৎসম’ শব্দটি সংস্কৃত ‘তৎ’ এবং ‘সম’ শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। এখানে ‘তৎ’ অর্থ তা বা তার এবং ‘সম’ অর্থ সমান। অর্থাৎ, সংস্কৃত ভাষার মতো বা সংস্কৃতের সমান রূপে ব্যবহৃত শব্দই তৎসম শব্দ। বাংলা ভাষায় সূর্য, চন্দ্র, অগ্নি, বায়ু, গৃহ, বিদ্যা, বিদ্যালয়, ধর্ম, কর্ম, মাতা, পিতা ও ব্যাকরণ ইত্যাদি তৎসম শব্দের উদাহরণ।
‘ব্যাকরণ’ শব্দের উৎপত্তি ও অর্থ
‘ব্যাকরণ’ শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসরি বাংলা ভাষায় এসেছে। সংস্কৃত ব্যাকরণশাস্ত্রে শব্দটির ব্যবহার রয়েছে। ব্যাকরণ বলতে কোনো ভাষার শব্দ গঠন, শব্দের রূপ পরিবর্তন, বাক্য গঠন এবং ভাষা ব্যবহারের নিয়মাবলির সুসংবদ্ধ আলোচনাকে বোঝায়। সহজভাবে বলতে গেলে, যে শাস্ত্রের মাধ্যমে ভাষার শুদ্ধ ব্যবহার, শব্দের গঠন এবং বাক্য রচনার নিয়ম জানা যায়, তাকে ব্যাকরণ বলে। বাংলা ভাষার ক্ষেত্রেও ব্যাকরণ ভাষার ধ্বনি, বর্ণ, শব্দ, পদ, বাক্য, সন্ধি, সমাস, কারক, বিভক্তি, প্রত্যয় ও উপসর্গ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। শব্দটির সংস্কৃত মূল রূপ অপরিবর্তিতভাবে বাংলায় ব্যবহৃত হওয়ায় এটি তৎসম শব্দ হিসেবে বিবেচিত।
তৎসম, অর্ধতৎসম, তদ্ভব ও দেশি শব্দের পার্থক্য
‘ব্যাকরণ’ কেন তৎসম শব্দ, তা ভালোভাবে বোঝার জন্য শব্দের অন্যান্য শ্রেণি সম্পর্কেও জানা প্রয়োজন। যেসব সংস্কৃত শব্দ সামান্য পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে অর্ধতৎসম শব্দ বলে। যেমন- জ্যোৎস্না থেকে জোছনা, গৃহিণী থেকে গিন্নি এবং নিমন্ত্রণ থেকে নেমন্তন্ন। অন্যদিকে, যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে প্রাকৃত বা অন্যান্য স্তরের মধ্য দিয়ে ধ্বনিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলা ভাষায় এসেছে, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলে। যেমন- হস্ত থেকে হাত, কর্ণ থেকে কান, চন্দ্র থেকে চাঁদ এবং দন্ত থেকে দাঁত। আবার যেসব শব্দের উৎপত্তি সংস্কৃত, প্রাকৃত বা বিদেশি ভাষা থেকে নয়, বরং বাংলার স্থানীয় বা অনার্য ভাষাগোষ্ঠী থেকে এসেছে, সেগুলোকে দেশি শব্দ বলে। যেমন- ঢেঁকি, কুলা, ডাব, ঝুড়ি ইত্যাদি।
পরীক্ষায় মনে রাখার বিষয়
বাংলা ভাষার শব্দের শ্রেণিবিভাগ থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, বিসিএস, শিক্ষক নিয়োগ, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ এবং স্কুল-কলেজের পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে। তাই তৎসম, অর্ধতৎসম, তদ্ভব ও দেশি শব্দের পার্থক্য উদাহরণসহ মনে রাখা জরুরি। বিশেষ করে ‘ব্যাকরণ’ শব্দটি সংস্কৃত থেকে সরাসরি বাংলায় এসেছে বলে একে তৎসম শব্দ হিসেবে শনাক্ত করতে হবে। শব্দটির অর্থের সঙ্গে এর শ্রেণিবিভাগ গুলিয়ে ফেলা যাবে না। শব্দের উৎপত্তি ও মূল রূপের ভিত্তিতেই এর শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়।
সঠিক উত্তর: তৎসম।
অতএব, ‘ব্যাকরণ’ শব্দটি তৎসম শব্দ। কারণ এটি সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসরি বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে এবং এর মূল রূপ প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। পরীক্ষায় এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় শব্দের উৎপত্তি সম্পর্কে ধারণা রাখলে সহজেই সঠিক উত্তর নির্বাচন করা সম্ভব।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ
প্রতি + বর্তন
প্রতি + আবর্তন
প্রতিঃ + বর্তন
প্রতিঃ + আবর্তন

